22 C
Dhaka
Sunday, February 5, 2023
প্রথম পৃষ্ঠাইসলামিকআলেম কাকে বলে? | আলেম সম্পর্কে বিস্তারিত

আলেম কাকে বলে? | আলেম সম্পর্কে বিস্তারিত

আলেম শব্দের অর্থ জ্ঞানী। শরিয়তের পরিভাষায় আলেম বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়ঃ যিনি, দ্বীনি প্রতিষ্ঠান থেকে কুরআন, সুন্নাহ, ও ফিকহে ইসলামী সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষিত ও ডিগ্রীপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আলেম বলা হয়ে থাকে।

আল্লাহ তা’আলা বলেন,
    إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ
নিশ্চয়ই তাঁর বান্দাদের (মধ্যে) আলেমগণই আল্লাহকে সত্যিকার অর্থে ভয় করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিশালী ও ক্ষমাশীল। সূরা আল-ফাতিরঃ ২৮
 এ আয়াতের ব্যাপারে ইমাম কুরতুবী রহঃ বলেন,
فَمَنْ عَلِمَ أَنَّهُ عَزَّ وَجَلَّ قَدِيرٌ أَيْقَنَ بِمُعَاقَبَتِهِ عَلَى الْمَعْصِيَةِ
 আলেম তারাই যারা আল্লাহর ক্ষমতার ব্যাপার জ্ঞান রাখেন। তারা আল্লাহর শাস্তির ব্যাপারে কোনো সন্দেহের মধ্যে নেই (বান্দার অপরাধ যা-ই হোক না কেন)।
আল-রাবি’ বর্ণনা করেন যে ইবন আব্বাস বলেন, (مَنْ لَمْ يَخْشَ اللَّهَ تَعَالَى فَلَيْسَ بِعَالِمٍ) যে আল্লাহ (ও তার শাস্তি)-কে ভয় করেনা সে আলেমই নয়।
عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: «يَا حَمَلَةَ الْعِلْمِ اعْمَلُوا بِهِ، فَإِنَّمَا الْعَالِمُ مَنْ عَمِلَ بِمَا عَلِمَ وَوَافَقَ عِلْمُهُ عَمَلَهُ، وَسَيَكُونُ أَقْوَامٌ يَحْمِلُونَ الْعِلْمَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ، يُخَالِفُ عَمَلُهُمْ عِلْمَهُمْ، وَتُخَالِفُ سَرِيرَتُهُمْ عَلَانِيَتَهُمْ، يَجْلِسُونَ حِلَقًا فَيُبَاهِيَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا، حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ لَيَغْضَبُ عَلَى جَلِيسِهِ أَنْ يَجْلِسَ إِلَى غَيْرِهِ وَيَدَعَهُ، أُولَئِكَ لَا تَصْعَدُ أَعْمَالُهُمْ فِي مَجَالِسِهِمْ، تِلْكَ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى
ইয়াহইয়া ইবনু জা’দাহ আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: হে ইলমের ধারক (আলেম)গণ! তোমরা তোমাদের ইলম অনুযায়ী আমল কর; কেননা, আলেম তো হলেন সেই ব্যক্তি যিনি তার জ্ঞান অনুসারে আমল করেন এবং তার আমল তার ইলম অনুসারে হয়। আর অচিরেই এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হবে, যারা ইলমের ধারক (আলেম) হবে কিন্তু তাদের ইলম তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তাদের আমল হবে তাদের ইলমের বিপরীত। তাদের গোপন বিষয়সমূহ হবে প্রকাশ্য বিষয়সমূহের বিপরীত। তারা গোলাকৃতি হয়ে (হালাকায়) বসে একে অপরের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে। এমনকি কোনো ব্যক্তি তার নিকট না বসে অন্যের নিকট বসলে সে এতে রাগান্বিত হবে এবং সে তাকে সেখানে বসতে নিষেধ করবে। আর এরা হলো ঐ সকল লোক যাদের এ মজলিসে কৃত আমলসমূহ আল্লাহ তা’আলা’-র নিকট উঠবে না। সুনানে দারেমী-৩৯৪
وَعَنْ سُفْيَانَ أَنَّ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللهُ عَنْه قَالَ لِكَعْبٍ مَنْ أَرْبَابُ الْعِلْمِ قَالَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ بِمَا يَعْلَمُونَ قَالَ فَمَا أَخْرَجَ الْعِلْمَ مِنْ قُلُوبِ الْعُلَمَاءِ قَالَ الطَّمَعُ. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ
  সুফ্ইয়ান সাওরী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
       উমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) কা‘ব (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, প্রকৃত ‘আলেম কারা? কাব (রহঃ) বললেন, যারা অর্জিত ‘ইলম অনুযায়ী আমাল করে। উমার (রাঃ) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘আলেমের অন্তর থেকে ইলমকে বের করে দেয় কোন্ জিনিস? কা’ব (রহঃ) বললেন, (সম্মান ও সম্পদের) লোভ-লালসা” 
দারিমী ৫৭৫, মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৬

আলেম হওয়ার জন্য জরুরী বিষয় হলো সনদ থাকা। তাই যে দ্বীনি ব্যক্তি কোন আলেম থেকে ইলম শিক্ষা নেই তাকে আমরা আলেম বলতে পারি।

দ্বীনি ইলম অর্জনের জন্য সনদ শর্ত

বিখ্যাত তাবেয়ি মুহাম্মাদ বিন সিরিন (রহ.) বলেন, ‘নিশ্চয় এই ইলম হলো দ্বীন। সুতরাং তোমরা ভালো করে যাচাই করে নাও কার কাছ থেকে তোমরা তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছো!’ (মুসলিম: ২৬)

প্রসিদ্ধ তাবেয়ি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেন, ‘সনদ হলো দ্বীনের অংশ। সনদ না থাকলে যার যা ইচ্ছা বলত!’ (মুসলিম: ৩২)

এ কারণেই প্রতিটি হাদিসের মান অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হয়। প্রত্যেক রাবি (বর্ণনাকারী) সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। হাদিসশাস্ত্র তৈরি হয়েছে শুধু এই উদ্দেশ্যেই।

তাই সনদ ছাড়া কোনো হাদিস কিংবা দ্বীনি কোনো বিষয়ই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বীনের প্রতিটি বিষয় গ্রহণ করতে হবে পূর্ণাঙ্গ সতর্কতার সঙ্গে। ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে।

 আলেম কয় প্রকার?
আলেম তিন প্রকার। যথাঃ

    1. আলেমে হক্ব
    2. আলেমে ছু
    3.  দরবারী আলেম।

ইমাম রাফেয়ী (রহঃ) বলেন, হে আমার সন্তান! আলেমে হক্ব আর আলেমে ছু’র মধ্যে পার্থক্য কী – জানো তুমি?
আলেমে হক্ব হোক বা আলেমে ছু, প্রত্যেকেই কিন্তু এক অভিন্ন নূর হাসিল করেছে। কিন্তু আলেমে ছু তার চরিত্র হিসেবে স্ফটিকের মতো। আর আলেমে হক্ব তাঁর চরিত্র হিসেবে লাকড়ির মতো।

আলেমে ছু চিন্তা-ফিকির করে কিভাবে শরী’আহর কোন দলীলকে অপব্যাখ্যা করা যায়, চক্রান্ত করা যায়, পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যায়। কিভাবে প্রকাশ করা যায়, কিভাবে লোকানো যায়। তার একমাত্র উদ্দেশ্য হল কিভাবে পকেট ও পেট ভরা যায়!

আলেমে হক্ব হলঃ যে কুরআন, সুন্নাহ ও খুলাফায়ে রাশেদীনের বাতানো পথে অটল-অবিচল থাকে। তাঁর উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি হয়ে থাকে। যদি শাসক সঠিক কাজ করে থাকে, তাহলে সাহায্য করবে আর ভুল করলে শুধরিয়ে দেবে।

আর দরবারী আলেম হলঃ যে দ্বীনকে কোন ভ্রান্ত, রাজনৈতিক নীতির জন্য ব্যবহার করে।

দরবারী আলেমরা হল এমন এক সম্প্রদায়, যাদের খিদমত করা হয় দ্বীন দ্বারা, তারা দ্বীনের খিদমত করেনা। তারা ফতোয়া দিয়ে থাকে শাসকের প্রকৃত চরিত্র ও ভ্রান্তিকে ঢেকে রাখার জন্য। এ ক্ষেত্রে তরা কতশত অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করে, যেমনি একজন দর্জি কাপড় সেলাই করার ক্ষেত্রে কতশত অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করে।

এদের অনিষ্টতা সবচেয়ে মারাত্নক ও ক্ষতিকারক। কারণ, এই অনিষ্টতা সব মানুষের উপর গিয়ে প্রভাব ফেলে। আর যখন কোন ফতোয়া শাসকের মনের চাহিদার অনুকূল হয়ে যায়, তখন সমাজের জন্য ভ্রান্ত, জালিম নীতি প্রসব করিয়ে দেয়।

সূত্র: ওয়াহয়ুল ক্বালাম। ইমাম আবুল ক্বাসিম রাফেয়ী (রহঃ)।

আলেম কয় শ্রেণীর?

আলেম দুই শ্রেণীর। আহ্ওয়াস ইবনু হাকীম (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
وَعَنِ الْأَحْوَصِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ ﷺ عَنِ الشَّرِّ فَقَالَ لَا تَسْأَلُونِي عَنْ الشَّرِّ وَاسْأَلُونِي عَنْ الْخَيْرِ يَقُولُهَا ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ أَلاَ إِنَّ شَرَّ الشَّرِّ شِرَارُ الْعُلَمَاءِ وَإِنَّ خَيْرَ الْخَيْرِ خِيَارُ الْعُلَمَاءِ. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মন্দ (লোক) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, আমাকে মন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না, বরং ভাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। অতঃপর তিনি বললেন, সাবধান! খারাপ মানুষের মধ্যে নিকৃষ্ট হচ্ছে মন্দ ‘আলেম। আর ভাল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ভাল হল ভাল ‘আলেমরা। দারিমী ৩৭০, মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭

হক্কানি আলেম কাকে বলে?

একজন সাধারন দ্বীনদার ব্যক্তিদের জন্য হাক্কানি আলেম চিনার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো, আলেমের চেহারা ও পোশাকে সুন্নাতের ছাপ পাওয়া যাবে, হাক্কানী আলেম দাওয়াত ও তাবলীগের প্রতি মহব্বত রাখেন, কথায় আচরণে তাকওয়া ও পরহেজগার হবেন, হক তাসাউফের প্রতি বিশ্বাস রাখেন, বিদআত এর বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকেন, সুন্নতের প্রতি আগ্রহী থাকেন। উপরিউক্ত গুণ যদি কোন আলেমের মধ্যে পাওয়া যায় তাহলে আমরা তাকে হাক্কানি আলেম বলে বুঝে নিতে পারি।

আলেমের মর্যাদা?

আলেমের মর্যাদাঃ একজন সত্যিকারের আলেম নবীদের উত্তরাধিকারী হিসেবে মর্যাদা পান। মানুষ মৃত্যুবরণ করার সঙ্গে সঙ্গে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আলেমের আমল জারি থাকে। একজন আলেম জীবিত অবস্থায় ইলম বিতরণ করার কারণে অনেকে উপকৃত হয়েছেন। সূত্রঃ যুগান্তর। 

وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ

‘যাদেরকে এলেম দেয়া হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে অনেক স্তরে মর্যাদা দিয়েছেন।’ সূরা মুজাদালাহঃ ১১

هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ
  যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? সূরা যুমারঃ ৯
 
 যার কোন ইলম নেই–তার জন্য আলেমগণকে জিজ্ঞেস করা আবশ্যক। আল্লাহ বলেন,
فَاسْأَلُواْ أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ
‘অতএব তোমরা যদি না জান তবে যারা স্মরণ রাখে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর। ’। সূরা আম্বিয়াঃ ৭
 
 অন্য আয়াতে এসেছে, 
 
فَاسْأَلُواْ أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ
‘অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে’। সূরা নাহলঃ ৪৩
 
وَعَن أَبي مُوسَى رضي الله عنه، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «إنَّ مِنْ إجْلالِ اللهِ تَعَالَى : إكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ المُسْلِمِ، وَحَامِلِ القُرآنِ غَيْرِ الغَالِي فِيهِ، وَالجَافِي عَنْهُ، وَإكْرَامَ ذِي السُّلْطَانِ المُقْسِط». حديث حسن رواه أَبُو داود
 
 আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘পাকা চুলওয়ালা বয়স্ক মুসলিমের, কুরআন বাহক (হাফেয ও আলেম)-এর যে কুরআনের ব্যাপারে অতিরঞ্জন ও অবজ্ঞাকারী নয় এবং ন্যায়পরায়ণ বাদশাহর সম্মান করা এক প্রকার আল্লাহ তা‘আলাকে সম্মান করা।’’
আবূ দাউদ ৪৮৪৩, রিয়াদুস সালেহিন ৩৫৮
 
 وَعَن أَبي الدَّردَاءِ  قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُمَنْ سَلَكَ طَرِيقاً يَبْتَغِي فِيهِ عِلْماً سَهَّلَ اللهُ لَهُ طَرِيقاً إِلَى الجَنَّةِ، وَإِنَّ المَلاَئِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ العِلْمِ رِضاً بِمَا يَصْنَعُ وَإِنَّ العَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ حَتَّى الحِيتَانُ فِي المَاءِ وَفَضْلُ العَالِمِ عَلَى العَابِدِ كَفَضْلِ القَمَرِ عَلَى سَائِرِ الكَوَاكِبِ وَإِنَّ العُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ وَإِنَّ الأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَاراً وَلاَ دِرْهَماً وَإِنَّمَا وَرَّثُوا العِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بحَظٍّ وَافِرٍرواه أَبُو داود والترمذي
 আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, আমি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি এমন পথে গমন করে, যাতে সে জ্ঞানার্জন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দেন। আর ফিরিশতাবর্গ তালেবে ইলমের জন্য তার কাজে প্রসন্ন হয়ে নিজেদের ডানাগুলি বিছিয়ে দেন। অবশ্যই আলেম ব্যক্তির জন্য আকাশ-পৃথিবীর সকল বাসিন্দা এমনকি পানির মাছ পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে। আবেদের উপর আলেমের ফযীলত ঠিক তেমনি, যেমন সমস্ত নক্ষত্রপুঞ্জের উপর পূর্ণিমার চাঁদের ফযীলত। উলামা সম্প্রদায় পয়গম্বরদের উত্তরাধিকারী। আর এ কথা সুনিশ্চিত যে, পয়গম্বরগণ কোন রৌপ্য বা স্বর্ণ মুদ্রার কাউকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে যাননি; বরং তাঁরা ইল্মের (দ্বীনী জ্ঞানভান্ডারের) উত্তরাধিকারী বানিয়ে গেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা অর্জন করল, সে পর্যাপ্ত অংশ লাভ করল।”  আবু দাঊদ ৩৬৪৩, তিরমিযী ২৬৮২, ইবনে মাজাহ ২২৩, ইবনে হিব্বান ৮৮, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ১৬৯৬, সহীহ তারগীব ৬৭, দারেমী ৩৪২
 
  وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ قَالَ ذُكِرَ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا عَابِدٌ وَالْاۤخَرُ عَالِمٌ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلى أَدْنَاكُمْ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَه وَأَهْلَ السَّموتِ وَالْأَرَضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
 
  আবূ উমামাহ্ আল বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট দুই ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হল। এদের একজন ছিলেন ‘আবিদ (‘ইবাদাতকারী), আর  দ্বিতীয়জন ছিলেন ‘আলেম (জ্ঞান অনুসন্ধানকারী)। তিনি বললেন, ‘আবিদের উপর ‘আলেমের মর্যাদা হল যেমন আমার মর্যাদা তোমাদের একজন সাধারণ ব্যক্তির উপর। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তা’আলা, তাঁর মালায়িকাহ্ এবং আকাশমণ্ডলী ও জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি পিঁপড়া তার গর্তে ও মাছ পর্যন্ত ‘ইলম শিক্ষাকারীর জন্য দু’আ করে। সহীহ লিগয়রিহী : তিরমিযী ২৬৭৫, সহীহুত্ তারগীব ৮১, দারিমী ১/৯৭-৯৮, মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩

আলেমের অমর্যার পরিণতি কি?

আলেমের অমর্যার পরিণতিঃ

 
(صحيح لغيره) وروي عن ابن عمر عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُبَاهِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ لِيَصْرِفَ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ فَهُوَ فِي النَّارِ. رواه ابن ماجه
 
ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি বিদ্যাম্বেষণ করবে এই উদ্দেশ্যে যে, তা দ্বারা আলেমদের মাঝে গর্ব করবে, মূর্খ লোকদের সাথে ঝগড়া করবে অথবা তার দিকে মানুষের দৃষ্টি ফিরাবে, তবে সে জাহান্নামে যাবে।” 
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ) সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব ১০৯

নিকৃষ্ট আলেম কারা?

নিকৃষ্ট আলেম যারাঃ

وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يُوْشِكُ اَنْ يَّاْتِىَ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَّا يَبْقى مِنَ الْإِسْلَامِ اِلَّا اسْمُه وَلَا يَبْقى مِنَ الْقُرْاۤنِ اِلَّا رَسْمُه مَسَاجِدُهُمْ عَامِرَةٌ وَّهِىَ خَرَابٌ مِّنَ الْهُدى عُلَمَاءُهُمْ شَرُّ مَنْ تَحْتَ اَدِيْمِ السَّمَاءِ مِنْ عِنْدِهِمْ تَخْرُجُ الْفِتْنَةُ وَفِيْهِمْ تَعُوْدُ. رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِيْ شُعَبِ الْاِيْمَانِ
 
আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শীঘ্রই মানুষের উপর এমন এক যুগ আসবে, যখন শুধু নাম ব্যাতীত ইসলামের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সেদিন কুরআনের অক্ষরই শুধু অবশিষ্ট থাকবে। তাদের মাসজিদ্ গুলোতো বাহ্যিকভাবে আবাদ হতে থাকবে, কিন্তু হিদায়াতশুন্য থাকবে। তাদের ‘আলিমগন হবে আকাশের নিচে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট লোক, তাদের নিকট থেকেই (দ্বীনের) ফিতনাহ-ফাসাদ সৃষ্টি হবে। অতঃপর এ ফিতনাহ তাদের দিকেই ফিরে আসবে।  শু‘আবুল ঈমান ১৯০৮, মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৬
 
আহ্‌ওয়াছ ইবনু হাকীম থেকে বর্ণিতঃ: আহ্‌ওয়াছ ইবনু হাকীম তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি বললেন, মন্দ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস কর না; বরং আমাকে ভাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর । এটা তিনি তিনবার বললেন। অতঃপর বললেন, জেনে রাখ, সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট লোক হল আলেমরা, যারা খারাপ এবং সর্বাপেক্ষা ভাল হচ্ছে আলেমদের মধ্যে যারা ভাল।
দারেমী ৩৭০; মিশকাত ২৪৯ 
 
عَنْ زِيَادِ بْنِ حُدَيْرٍ، قَالَ: قَالَ لِي عُمَرُ: «هَلْ تَعْرِفُ مَا يَهْدِمُ الْإِسْلَامَ؟» قَالَ: قُلْتُ: لَا، قَالَ: يَهْدِمُهُ زَلَّةُ الْعَالِمِ، وَجِدَالُ الْمُنَافِقِ بِالْكِتَابِ وَحُكْمُ الْأَئِمَّةِ الْمُضِلِّينَ
 
যিয়াদ ইবনু হুদাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তুমি কি জানো, কিসে ইসলামকে ধ্বংস করবে? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, আলিমগণের পদস্খলন বা ভ্রান্তি, কিতাব তথা কুরআন নিয়ে মুনাফিকদের ঝগড়া-বিবাদ, গোমরাহকারী আইম্মা (নেতা)-দের শাসন-পরিচালনা।
দারেমী ২২০
 
সূত্রঃ bartaview, banglanews24, ordinaryit

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Leave a Reply

Most Popular